পাঁচ বছরের শিশু। শুনেছে বাবা বিদেশে মারা গেছেন। মা কাঁদছেন। বাড়ির সবাই কাঁদছে। কিন্তু শিশুটি মরা-বাঁচা বুঝতে চায় না। বাবাকে তার চাই-ই চাই। তাই ঘরে থাকা বাবার ছবি বুকে নিয়ে বাড়িজুড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। ছবিতেই খুঁজছে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া বাবাকে।
উপরের ছবির শিশুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সৈনিক জামালের ছেলে। গত বুধবার মালিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত চার বাংলাদেশি সেনার মধ্যে তিনিও একজন। শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের সময় প্রাণ দিয়েছেন জামাল। এভাবে তার চলে যাওয়া মানতে পারছেন না কেউ। শোকস্তব্ধ ঘাইসাপাড়া গ্রামের প্রতিটি মানুষ।
চার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর বাড়িতে এভাবে চলছে শোকের মাতম। শোকস্তব্ধ স্বজনরা দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন।
একই অবস্থা আরেক সেনা সদস্য পিরোজপুরের কালামের বাড়িতেও। তিন মাস পর মালি থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু সেটি আর হলো না।
শোকের মাতম চলছে পাবনার সমাশনারী গ্রামেও। নির্বাক সেনা সদস্য রায়হানের পরিবারের সদস্যরাও। দূর্গম অঞ্চলে যাওয়ার কথা বলে গেল বুধবার ফোনে দোয়া চেয়েছিলেন রায়হান।
শান্তরক্ষী মিশনে গিয়ে লাশ হয়েছেন মাগুরার আকতার। আহাজারি থামছেনা তার পরিবারেও। নির্মম এমন সংবাদ শোনার পর বড়ালীদহের বাড়িতে ছুটে এসেছেন অনেকেই।
গত বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে আফ্রিকার দেশ মালির ‘মপতি’ এলাকায় আইইডি’র বিস্ফোরণে এই চার সেনা সদস্য নিহত হন। আহত হন আরও চার জন।
Leave a reply