জি-২০ সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে ৮৩ দফা গৃহীত, জলবায়ু পরিবর্তন-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে গুরুত্ব

|

শিবলী নোমান, ভারত:

জি-২০ সম্মেলনের প্রথম দিনে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে ৮৩ দফার ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’। যেখানে রাশিয়ার নাম উল্লেখ না করে সীমান্ত সুরক্ষা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার অনুরোধও জানানো হয় সদস্য দেশগুলোকে।

এটিকে ‘ব্যালেন্সড ডিক্লারেশন’ আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে মস্কো। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রোধ থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের মতো ইস্যুও স্থান পেয়েছে ঘোষণায়।

প্রসঙ্গত, জি-২০ সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট না এসে প্রতিনিধি পাঠাবেন, তা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তাই রীতিমাফিক সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ আসবে কি না, অথবা এলেও ঘোষণা সর্বসম্মত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল সম্মেলন শুরুর আগে থেকে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই ঘোষণা ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়ে গেছে সম্মেলনের প্রথম দিনেই।

এ বিষয়ে জি-২০ শেরপা অমিতাভ কান্ত বলেন, সব দেশ নয়াদিল্লির ঘোষণাপত্রে সমর্থন দিয়েছে। এতে কোনো ফুটনোট নেই। শতভাগ ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত একটি বিবৃতি।

ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে ঘোষণায় তুলে আনতে কয়েকদিন ধরেই চলেছে নানা আলোচনা। শেষ পর্যন্ত ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র বদলে ‘ইউক্রেনে যুদ্ধ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করার পরেই আসে সফলতা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, গত কিছুদিন ধরেই ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার হয়েছে। প্রত্যেকেই সহায়তা করেছে। একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে সবাই একসাথে হয়েছে।

দিল্লি ঘোষণার ৭ থেকে ১৪ নম্বর দফায় ইউক্রেনে শান্তি স্থাপন ও যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সংকট দূরীকরণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তাগিদ দেয়া হয়েছে কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি ফের চালুর ব্যাপারে। এই চুক্তির সম্ভাব্য বিকল্প নিয়েও সম্মেলনের সাইডলাইনে তুরস্ক ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এস. জয়শঙ্কর আরও বলেন, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এই সময়ের মধ্যে নতুন অনেক কিছুই হয়েছে। নেতাদের ঘোষণাপত্রের ভূ-রাজনৈতিক অংশটি খেয়াল করলে দেখবেন, এখানে আটটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। যার মধ্যে ৭টিতেই ইউক্রেন ইস্যুকে ফোকাস করা হয়েছে।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করতে উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে বিশ্বনেতারা একমত হয়েছেন এই ঘোষণায়।

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছেন, জি-২০ প্রেসিডেন্সি আইএমএফ ও এফএসবির সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে করনীয় নির্ধারণ করবে। ক্রিপটো অ্যাসেট নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক মানদণ্ডে একটি কাঠামো তৈরি করছে এফএসবি।

জি-২০ এর নয়াদিল্লি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সমসাময়িক বিশ্ববাস্তবতায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিজেদের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক সহায়তা বাড়াতে হবে।

/এমএন


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply