রিমন রহমান:
মোহাম্মদ আবু, পেশায় সিএনজি চালক, থাকেন রাজধানীতে। সম্প্রতি চা পান করছিলেন আগারগাঁওয়ের নতুন রাস্তার পাশের টং দোকানে। এ সময় তার সাথে সর্বজনীন পেনশন নিয়ে কথা হয়।
বলছিলেন, বয়স হলে তো কাজ করা যায় না। তখন তো টাকা লাগে কিছু। যুবক থাকা অবস্থায় যদি সঞ্চয় করা না যায়, তাহলে তো বিপদ। কিন্তু পেনশন স্কিমে টাকা ফিরে পাবার নিশ্চয়তা কে দেবে?
খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো, সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে অন্ধকারে নিম্ন আয়ের মানুষদের বড় অংশ। শেষ জীবনে তারা আর্থিক নিশ্চয়তা চাইলেও পেনশন স্ক্রিমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেন।
গত বছরের ১৭ আগস্ট সরকার চালু করে সর্বজনীন পেনশন স্কিম। পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এই উদ্যোগের বাইরে রয়েছে বড় সংখ্যক মানুষ। চারটি স্কিমে যুক্ত হয়েছে মাত্র ১৮ হাজার জন। প্রগতী স্কিমে আগ্রহ দেখিয়েছে সবচেয়ে বেশি মানুষ। তারপরই সুরক্ষা স্কিমের নাম। এ অবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই উদ্যোগে মানুষের আগ্রহ নেই?
অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, তাদের কাছে বর্তমানে চলাটাই দূরহ হয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের কাছে এটি নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। তবে, এই কর্মসূচির কোনো ঘাটতি, প্রচার নাকি সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে তারা আগ্রহী হচ্ছেন না, এ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে দরকার মনে করি।
এদিকে, সরকারের এই স্কিমে প্রবাসীদের আগ্রহ নেই। সবচেয়ে কম সংখ্যাক মানুষ এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আর সমতা স্কিমে অর্থ জমার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু দরিদ্র্য মানুষদের জন্য এই স্কিম চালু হলেও তথ্য যাচাই হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, আর্থিক খাতের নানা অনিয়মে মানুষের আস্থা নেই। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ধীরে ধীরে বাড়বে অংশগ্রহণ।
মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, আর্থিক খাতের সবগুলো প্রতিষ্ঠানই মোটামুটি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে বলা চলে। সবমিলিয়ে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাস্থ্য ভালো না, এটা কিন্তু বড় একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আস্থাহীনতাও একটা কারণ হতে পারে।
সর্বস্তরে এই পেনশন স্কিমের আগ্রহ বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আর জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে লোকবল নিয়োগ দিচ্ছে সরকার।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ১০ কোটি মানুষকে যদি পেনশনের আওতায় আনা যায়, তাহলে তাদের সবারই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তার মধ্যে যাদের আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না, তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী হলে আমরা একটা ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
/এমএন
Leave a reply